ঢাকা ০৯:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানে উদ্ধার অভিযানে কেন নিজেদের যুদ্ধবিমান ধ্বংস করতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে – এনডিটিভির প্রতিবেদন

প্রিন্ট নিউজ :
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

ইরানে ভূপাতিত এফ–১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানের দুই মার্কিন ক্রুকে উদ্ধারে চালানো ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে নিজেদেরই অন্তত এক থেকে দুটি উচ্চপ্রযুক্তির বিমান ধ্বংস করতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, দ্বিতীয় ক্রু সদস্য—একজন কর্নেল—কে উদ্ধারে ইরানের মরুভূমিতে অস্থায়ী রানওয়েতে বিশেষ পরিবহন বিমান মোতায়েন করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে অবতরণের পর যান্ত্রিক ত্রুটি বা নরম মাটিতে আটকে পড়ার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

এ সময় ইরানি বাহিনী চারদিক থেকে ঘিরে ফেলতে থাকলে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত বিমান পাঠানো হয়। বার্তা সংস্থা এপির বরাতে জানা যায়, শেষ পর্যন্ত ফেলে যাওয়া বিমানগুলো শত্রুর হাতে পড়া ঠেকাতে মার্কিন সেনারাই সেগুলোতে বোমা হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইসফাহান প্রদেশে বিধ্বস্ত মার্কিন বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো লকহিড মার্টিনের সি-১৩০ সিরিজের, বিশেষ করে এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু মডেলের বিমান হতে পারে।

প্রতিটি বিমানের মূল্য ১০ কোটি ডলারের বেশি এবং এগুলো সাধারণত শত্রু এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। ধ্বংসাবশেষে বিশেষ ধরনের হেলিকপ্টারের অংশও দেখা গেছে, যা অভিযানে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা শত্রুপক্ষের উড়োজাহাজ ধ্বংস করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র অপমানজনক পরাজয়ের মুখে পড়েছে। তবে মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, শত্রু এলাকায় পরিচালিত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে সংবেদনশীল প্রযুক্তি রক্ষার জন্য নিজেদের সরঞ্জাম ধ্বংস করা একটি প্রচলিত কৌশল। অতীতেও এমন নজির রয়েছে।

এর আগে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, নিখোঁজ আহত ক্রু সদস্যকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, অত্যন্ত দুঃসাহসিক অভিযানে কয়েক ডজন বিমান ব্যবহার করে ওই সেনাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়।

এ ঘটনায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ইরানে উদ্ধার অভিযানে কেন নিজেদের যুদ্ধবিমান ধ্বংস করতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে – এনডিটিভির প্রতিবেদন

আপডেট সময় : ০৭:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

ইরানে ভূপাতিত এফ–১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানের দুই মার্কিন ক্রুকে উদ্ধারে চালানো ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে নিজেদেরই অন্তত এক থেকে দুটি উচ্চপ্রযুক্তির বিমান ধ্বংস করতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, দ্বিতীয় ক্রু সদস্য—একজন কর্নেল—কে উদ্ধারে ইরানের মরুভূমিতে অস্থায়ী রানওয়েতে বিশেষ পরিবহন বিমান মোতায়েন করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে অবতরণের পর যান্ত্রিক ত্রুটি বা নরম মাটিতে আটকে পড়ার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

এ সময় ইরানি বাহিনী চারদিক থেকে ঘিরে ফেলতে থাকলে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত বিমান পাঠানো হয়। বার্তা সংস্থা এপির বরাতে জানা যায়, শেষ পর্যন্ত ফেলে যাওয়া বিমানগুলো শত্রুর হাতে পড়া ঠেকাতে মার্কিন সেনারাই সেগুলোতে বোমা হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইসফাহান প্রদেশে বিধ্বস্ত মার্কিন বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো লকহিড মার্টিনের সি-১৩০ সিরিজের, বিশেষ করে এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু মডেলের বিমান হতে পারে।

প্রতিটি বিমানের মূল্য ১০ কোটি ডলারের বেশি এবং এগুলো সাধারণত শত্রু এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। ধ্বংসাবশেষে বিশেষ ধরনের হেলিকপ্টারের অংশও দেখা গেছে, যা অভিযানে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা শত্রুপক্ষের উড়োজাহাজ ধ্বংস করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র অপমানজনক পরাজয়ের মুখে পড়েছে। তবে মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, শত্রু এলাকায় পরিচালিত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে সংবেদনশীল প্রযুক্তি রক্ষার জন্য নিজেদের সরঞ্জাম ধ্বংস করা একটি প্রচলিত কৌশল। অতীতেও এমন নজির রয়েছে।

এর আগে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, নিখোঁজ আহত ক্রু সদস্যকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, অত্যন্ত দুঃসাহসিক অভিযানে কয়েক ডজন বিমান ব্যবহার করে ওই সেনাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়।

এ ঘটনায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।