ঢাকা ০৯:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএসএফের গুলিতে পাটগ্রাম সীমান্তে বাংলাদেশি আহত, উত্তেজনা

প্রিন্ট নিউজ :
  • আপডেট সময় : ০৬:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মিজানুর রহমান মিজান (২০) নামে এক বাংলাদেশি কৃষক আহতের খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনার জেরে পাটগ্রাম সীমান্তে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সীমান্তের শূন্যরেখায় বাংলাদেশি কৃষককে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আহত মিজান গাটিয়ারভিটা গ্রামের ডাঙারবাড়ী এলাকার মফিজুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের ওপারে ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে শূন্যরেখায় দু’দেশের কৃষকেরা চাষাবাদ করেন। সোমবার সকালে মিজানুর রহমান মিজান নিজের ভুট্টাখেতে পরিচর্যা ও ঘাস আনতে গেলে ভারতের মেখলিগঞ্জ ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের এক সদস্য তাকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। এতে তার ডান কাঁধে গুলি লাগে। মিজান প্রাণ বাঁচাতে হামাগুড়ি দিয়ে ভুট্টাক্ষেত পেরিয়ে আসেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি রংপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এই ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে পাশাপাশি থাকা বাংলাদেশ-ভারত প্রধান পিলার ৮২৮ নম্বরের ৩ থেকে ৪ নম্বর উপপিলার-সংলগ্ন শূন্যরেখার জমিতে চাষাবাদরত ভারতীয় কৃষক সহদেব বর্মণকে (৪০) গরুসহ বাংলাদেশের ভেতরে নিয়ে আসেন। সহদেব ভারতের কোচবিহারের কুচলিবাড়ি থানার ৯৪ ফুলকাডাবরী এলাকার হরেন্দ্র নাথ বর্মণের ছেলে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ২ নম্বর পাটগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান মোকছেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি এবং ঘটনা সত্য। বাংলাদেশি কৃষক আহতের খবরে ওই এলাকার লোকজন গরুসহ ভারতীয় এক কৃষককে ধরে নিয়ে এসেছে।

এই ঘটনার জেরে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে বিএসএফ ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকের পরে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।

বিজিবির ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) সহকারী পরিচালক (এডি) মেজর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ঘটনা শুনেছি। আমরা পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। পতাকা বৈঠকের পর বিস্তারিত বলতে পারবো।’

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিএসএফের গুলিতে পাটগ্রাম সীমান্তে বাংলাদেশি আহত, উত্তেজনা

আপডেট সময় : ০৬:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মিজানুর রহমান মিজান (২০) নামে এক বাংলাদেশি কৃষক আহতের খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনার জেরে পাটগ্রাম সীমান্তে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সীমান্তের শূন্যরেখায় বাংলাদেশি কৃষককে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আহত মিজান গাটিয়ারভিটা গ্রামের ডাঙারবাড়ী এলাকার মফিজুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের ওপারে ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে শূন্যরেখায় দু’দেশের কৃষকেরা চাষাবাদ করেন। সোমবার সকালে মিজানুর রহমান মিজান নিজের ভুট্টাখেতে পরিচর্যা ও ঘাস আনতে গেলে ভারতের মেখলিগঞ্জ ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের এক সদস্য তাকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। এতে তার ডান কাঁধে গুলি লাগে। মিজান প্রাণ বাঁচাতে হামাগুড়ি দিয়ে ভুট্টাক্ষেত পেরিয়ে আসেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি রংপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এই ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে পাশাপাশি থাকা বাংলাদেশ-ভারত প্রধান পিলার ৮২৮ নম্বরের ৩ থেকে ৪ নম্বর উপপিলার-সংলগ্ন শূন্যরেখার জমিতে চাষাবাদরত ভারতীয় কৃষক সহদেব বর্মণকে (৪০) গরুসহ বাংলাদেশের ভেতরে নিয়ে আসেন। সহদেব ভারতের কোচবিহারের কুচলিবাড়ি থানার ৯৪ ফুলকাডাবরী এলাকার হরেন্দ্র নাথ বর্মণের ছেলে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ২ নম্বর পাটগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান মোকছেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি এবং ঘটনা সত্য। বাংলাদেশি কৃষক আহতের খবরে ওই এলাকার লোকজন গরুসহ ভারতীয় এক কৃষককে ধরে নিয়ে এসেছে।

এই ঘটনার জেরে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে বিএসএফ ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকের পরে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।

বিজিবির ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) সহকারী পরিচালক (এডি) মেজর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ঘটনা শুনেছি। আমরা পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। পতাকা বৈঠকের পর বিস্তারিত বলতে পারবো।’