ঢাকা ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণের ৪৮ বছর পর  টাকা পরিশোধ

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:১১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ৪৮ বছর আগে বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণের দায় থেকে অবশেষে মুক্ত হলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা মো. মফিজুল ইসলাম (৬০)। নিজের ভুলের অনুশোচনা থেকে তিনি রেলওয়ের পাওনা হিসেবে ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

জানা যায়, ১৯৭০-এর দশকের শেষদিকে জীবিকার তাগিদে ব্যবসা শুরু করেন মফিজুল ইসলাম। সে সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন উন্নত না থাকায় তিনি শ্রীপুর থেকে উৎপাদিত কাঁঠাল ট্রেনের ছাদে করে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতেন। ওই সময় নিয়মিত ট্রেনে যাতায়াত করলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তিনি টিকিট কাটতেন না। পরিবর্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হাতে স্বল্প পরিমাণ টাকা দিতেন, যা সরকারি কোষাগারে জমা হতো না।

মফিজুল ইসলাম বলেন, প্রায় ২ থেকে ৩ বছর তিনি এভাবে বিনা টিকিটে ট্রেনে যাতায়াত করেছেন। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে তাকে মানসিকভাবে কষ্ট দিচ্ছিল। তিনি মনে করেন, এতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তার কাছ থেকে প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। নিজের বিবেকের তাড়নায় তিনি সেই দায় পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, অনেকদিন ধরেই মনে হচ্ছিল, এই টাকাটা আমার পরিশোধ করা উচিত। আমি বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ ছিলাম। কিন্তু কত টাকা পরিশোধ করব, তা বুঝতে পারছিলাম না। পরে নিজে হিসাব করে ধারণা করি, প্রায় ২০ হাজার টাকার মতো হবে। তাই সেই পরিমাণ টাকা জমা দিয়েছি।

এরপর তিনি শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ২০ হাজার টাকা জমা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। একসঙ্গে এত টাকার টিকিট না থাকায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরবর্তীতে গত ১ এপ্রিল বিশেষ মানি রিসিটের মাধ্যমে তিনি ২০ হাজার টাকা জমা দেন। পরে ৬ এপ্রিল তা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়।

শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. সাইদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মফিজুল ইসলামের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি নিজের ভুল উপলব্ধি করে দায়মুক্ত হতে চেয়েছেন, যা সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা।

তিনি আরও জানান, রেলওয়েতে পুরোনো বকেয়া বা দায় পরিশোধের আইনি বিধান রয়েছে। কেউ চাইলে যে কোনো রেলস্টেশনে গিয়ে এ ধরনের পাওনা পরিশোধ করতে পারেন।

বর্তমানে মফিজুল ইসলাম স্থানীয়ভাবে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ফাতেমাতুজ যাহরা (রা.) মহিলা মাদ্রাসা’ প্রতিষ্ঠা করে পরিচালনা করছেন। দীর্ঘদিনের মানসিক বোঝা থেকে মুক্ত হয়ে এখন তিনি স্বস্তি অনুভব করছেন।

স্থানীয়দের মতে, মফিজুল ইসলামের এই উদ্যোগ সমাজে সততা ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

 

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণের ৪৮ বছর পর  টাকা পরিশোধ

আপডেট সময় : ০৮:১১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

দীর্ঘ ৪৮ বছর আগে বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণের দায় থেকে অবশেষে মুক্ত হলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা মো. মফিজুল ইসলাম (৬০)। নিজের ভুলের অনুশোচনা থেকে তিনি রেলওয়ের পাওনা হিসেবে ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

জানা যায়, ১৯৭০-এর দশকের শেষদিকে জীবিকার তাগিদে ব্যবসা শুরু করেন মফিজুল ইসলাম। সে সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন উন্নত না থাকায় তিনি শ্রীপুর থেকে উৎপাদিত কাঁঠাল ট্রেনের ছাদে করে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতেন। ওই সময় নিয়মিত ট্রেনে যাতায়াত করলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তিনি টিকিট কাটতেন না। পরিবর্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হাতে স্বল্প পরিমাণ টাকা দিতেন, যা সরকারি কোষাগারে জমা হতো না।

মফিজুল ইসলাম বলেন, প্রায় ২ থেকে ৩ বছর তিনি এভাবে বিনা টিকিটে ট্রেনে যাতায়াত করেছেন। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে তাকে মানসিকভাবে কষ্ট দিচ্ছিল। তিনি মনে করেন, এতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তার কাছ থেকে প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। নিজের বিবেকের তাড়নায় তিনি সেই দায় পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, অনেকদিন ধরেই মনে হচ্ছিল, এই টাকাটা আমার পরিশোধ করা উচিত। আমি বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ ছিলাম। কিন্তু কত টাকা পরিশোধ করব, তা বুঝতে পারছিলাম না। পরে নিজে হিসাব করে ধারণা করি, প্রায় ২০ হাজার টাকার মতো হবে। তাই সেই পরিমাণ টাকা জমা দিয়েছি।

এরপর তিনি শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ২০ হাজার টাকা জমা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। একসঙ্গে এত টাকার টিকিট না থাকায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরবর্তীতে গত ১ এপ্রিল বিশেষ মানি রিসিটের মাধ্যমে তিনি ২০ হাজার টাকা জমা দেন। পরে ৬ এপ্রিল তা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়।

শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. সাইদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মফিজুল ইসলামের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি নিজের ভুল উপলব্ধি করে দায়মুক্ত হতে চেয়েছেন, যা সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা।

তিনি আরও জানান, রেলওয়েতে পুরোনো বকেয়া বা দায় পরিশোধের আইনি বিধান রয়েছে। কেউ চাইলে যে কোনো রেলস্টেশনে গিয়ে এ ধরনের পাওনা পরিশোধ করতে পারেন।

বর্তমানে মফিজুল ইসলাম স্থানীয়ভাবে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ফাতেমাতুজ যাহরা (রা.) মহিলা মাদ্রাসা’ প্রতিষ্ঠা করে পরিচালনা করছেন। দীর্ঘদিনের মানসিক বোঝা থেকে মুক্ত হয়ে এখন তিনি স্বস্তি অনুভব করছেন।

স্থানীয়দের মতে, মফিজুল ইসলামের এই উদ্যোগ সমাজে সততা ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।