ঢাকা ০৭:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশব্যাপী সর্দি-জ্বর হলেই হাম নয়, ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক নয়

প্রিন্ট নিউজ :
  • আপডেট সময় : ০৭:০১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব চলছে। কমবেশি সব জেলায় হামে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। তবে হামের চেয়ে নাক দিয়ে পানি পড়াসহ মৌসুমী সর্দি জ্বরে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এই সময় চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত কোনো অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ানোর উপদেশ দিয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ। হামের টিকা দেওয়ার পাশাপাশি এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে অভিভাবকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়ার প্রচারণা চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

বর্তমান মৌসুমে সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের ব্যাপক হারে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রাম এলাকায় এর ব্যবহার  বেশি হচ্ছে। অভিভাবকরা নিজেরা ওষুধের দোকান থেকে কিংবা একশ্রেণির চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াচ্ছেন। সাধারণ সর্দি-কাশি, জ্বর ও নাকে পানি পড়ার উপসর্গে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে শিশু আরোগ্য লাভের চেয়ে স্বাস্থ্যক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বেশি। বর্তমানে ঋতু পরিবর্তনের ফলে সাধারণ সর্দি-কাশি ও জ্বরের পাশাপাশি নাক দিয়ে পানি পড়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে কিংবা শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রাইভেট চেম্বারে আগত শিশুদের সংখ্যাই বেশি।  হাম ভেবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন। তাছাড়া ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে হামের প্রাদুর্ভাবের কোনো সম্পর্ক নেই।

দেশের জ্যেষ্ঠ শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, ঋতু পরিবর্তনের ফলে সর্দি, কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জ্বরের সঙ্গে নাক দিয়ে পানি পড়া ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমণ নয়। ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলে জ্বর হবে, নাক দিয়ে পানি পড়বে না। সর্দি, কাশি, জ্বর ও নাক দিয়ে পানি পড়লেই হামে আক্রান্ত নয়। চার দিনের জ্বরের সঙ্গে দেহে লালচে র‍্যাশ দেখা দিলে হামের লক্ষণ কিংবা আক্রান্ত হয়েছে বলে শনাক্ত করা হয়।

শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সফি উদ্দিন বলেন, সর্দি, কাশি, জ্বর ও নাকের পানি পড়ার উপসর্গ হলে শুধু প্যারাসিটামল সিরাপ খাওয়াবেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। প্রতিদিন তার প্রাইভেট চেম্বারে প্রচুর সংখ্যক সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত শিশু আসছে। সেখানে হামের উপসর্গ নিয়ে আসার সংখ্যা খুবই কম। অভিভাবকদের ক্ষেত্রে আতঙ্কিত না হয়ে শুধু প্যারাসিটামল সিরাপ সেবনের পাশাপাশি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ঋতু পরিবর্তনের কারণে সর্দি, কাশি ও জ্বর বেশি হচ্ছে। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পাশাপাশি হাম প্রতিরোধে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম দেশব্যাপী চলছে।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দেশব্যাপী সর্দি-জ্বর হলেই হাম নয়, ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক নয়

আপডেট সময় : ০৭:০১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব চলছে। কমবেশি সব জেলায় হামে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। তবে হামের চেয়ে নাক দিয়ে পানি পড়াসহ মৌসুমী সর্দি জ্বরে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এই সময় চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত কোনো অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ানোর উপদেশ দিয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ। হামের টিকা দেওয়ার পাশাপাশি এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে অভিভাবকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়ার প্রচারণা চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

বর্তমান মৌসুমে সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের ব্যাপক হারে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রাম এলাকায় এর ব্যবহার  বেশি হচ্ছে। অভিভাবকরা নিজেরা ওষুধের দোকান থেকে কিংবা একশ্রেণির চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াচ্ছেন। সাধারণ সর্দি-কাশি, জ্বর ও নাকে পানি পড়ার উপসর্গে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে শিশু আরোগ্য লাভের চেয়ে স্বাস্থ্যক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বেশি। বর্তমানে ঋতু পরিবর্তনের ফলে সাধারণ সর্দি-কাশি ও জ্বরের পাশাপাশি নাক দিয়ে পানি পড়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে কিংবা শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রাইভেট চেম্বারে আগত শিশুদের সংখ্যাই বেশি।  হাম ভেবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন। তাছাড়া ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে হামের প্রাদুর্ভাবের কোনো সম্পর্ক নেই।

দেশের জ্যেষ্ঠ শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, ঋতু পরিবর্তনের ফলে সর্দি, কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জ্বরের সঙ্গে নাক দিয়ে পানি পড়া ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমণ নয়। ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলে জ্বর হবে, নাক দিয়ে পানি পড়বে না। সর্দি, কাশি, জ্বর ও নাক দিয়ে পানি পড়লেই হামে আক্রান্ত নয়। চার দিনের জ্বরের সঙ্গে দেহে লালচে র‍্যাশ দেখা দিলে হামের লক্ষণ কিংবা আক্রান্ত হয়েছে বলে শনাক্ত করা হয়।

শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সফি উদ্দিন বলেন, সর্দি, কাশি, জ্বর ও নাকের পানি পড়ার উপসর্গ হলে শুধু প্যারাসিটামল সিরাপ খাওয়াবেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। প্রতিদিন তার প্রাইভেট চেম্বারে প্রচুর সংখ্যক সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত শিশু আসছে। সেখানে হামের উপসর্গ নিয়ে আসার সংখ্যা খুবই কম। অভিভাবকদের ক্ষেত্রে আতঙ্কিত না হয়ে শুধু প্যারাসিটামল সিরাপ সেবনের পাশাপাশি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ঋতু পরিবর্তনের কারণে সর্দি, কাশি ও জ্বর বেশি হচ্ছে। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পাশাপাশি হাম প্রতিরোধে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম দেশব্যাপী চলছে।