গাজীপুরের দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ডার্ড গ্রুপের শ্রমিকদের অবশিষ্ট সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ, মালিকের সম্পত্তি বিক্রয়ের মাধ্যমে শ্রমিকদের প্রাপ্য নিশ্চিতকরণ এবং কারখানা পুনরায় চালুর দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন শফিউল আলম, সহ-সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি, বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন,বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ঐক্য পরিষদ সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান।
এ সময় ডার্ড গ্রুপের ভুক্তভোগী শ্রম ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ডার্ড গ্রুপের কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে এবং মালিক পলাতক থাকায় হাজারো শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শ্রমিকদের কয়েক মাসের বেতন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, সার্ভিস বেনিফিট, অর্জিত ছুটির টাকাসহ বিভিন্ন পাওনা এখনও পরিশোধ করা হয়নি।
তারা জানান, ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর শ্রমিক, মালিকপক্ষ ও প্রশাসনের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তিতে শ্রম আইনে নির্ধারিত পূর্ণ সুবিধার পরিবর্তে মাত্র ৫০ শতাংশ সুবিধা প্রদানের কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি।
বক্তারা অভিযোগ করেন, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের উদ্দেশ্যে সরকার থেকে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হলেও তা সঠিকভাবে শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। বিভিন্ন আন্দোলনের মাধ্যমে আনুমানিক ১১ কোটি টাকা বিতরণ করা হলেও এখনও বিপুল পরিমাণ পাওনা বকেয়া রয়েছে।
তারা আরও বলেন, কারখানার ভিতরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার বিক্রয়যোগ্য মালামাল ও যন্ত্রপাতি মজুদ থাকা সত্ত্বেও সরকার তা বিক্রয়ের মাধ্যমে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। দীর্ঘদিন অবহেলায় এসব মালামাল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, মালিকের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে ৩০০-এর অধিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা কার্যকর করার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। একই সঙ্গে মালিকপক্ষ ধারাবাহিকভাবে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে শ্রম আদালতে চলমান মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখছেন, যার ফলে শ্রমিকদের ন্যায়বিচার ও আইনগত পাওনা প্রাপ্তি দীর্ঘসূত্রতায় পড়ছে।
বক্তারা জানান, মালিকপক্ষ শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ সংক্রান্ত সরকারি কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করেছে। অপরদিকে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা রিট পিটিশনের বিরুদ্ধে পক্ষভুক্ত হয়ে আদালতে তাদের ন্যায্য অধিকার ও পাওনার বিষয় তুলে ধরেছেন। শ্রমিক নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, মহামান্য হাইকোর্ট শ্রমিকদের স্বার্থ ও ন্যায়বিচারের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে মালিকের সম্পত্তি ও কারখানার মালামাল বিক্রয়ের মাধ্যমে ডার্ড গ্রুপের শ্রমিকদের অবশিষ্ট সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ, গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসক নিয়োগ করে কারখানা পুনরায় চালুর জোর দাবি জানানো হয়।
শ্রমিক নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান।