সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠানরত ‘জুনিয়র অ্যান্ড সিনিয়র আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস সিঙ্গাপুর ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপস (এসজিপি)’-এর একুশতম আসরে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বান্দরবানের লামার খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ-এর ৭ উদীয়মান খেলোয়াড়।
বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশন সূত্র জানায়, ১ জুন থেকে ৮ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের ৭ জন জিমন্যাস্টকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়। তারা হলেন— উহাই মং মার্মা, প্রেনথৈ ম্রো, মংচিং প্রু ত্রিপুরা, মেনটন টনি ম্রো, উটিংওয়াং মার্মা, রাজীব চাকমা ও ওয়ে ওয়ে সাই মার্মা। প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চল থেকে উঠে আসা এই জিমন্যাস্টদের সঠিক গাইডলাইন, শৃঙ্খলা এবং আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিবিড় যত্নে গড়ে তুলেছে কোয়ান্টাম। দীর্ঘদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং কোচদের নিখুঁত নির্দেশনায় তারা আজ আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশের হয়ে লড়াই করার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
ফেডারেশনের এক পত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে এই খেলোয়াড়দের মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়। এই ঐতিহাসিক অর্জন সম্পর্কে কোয়ান্টাম শিক্ষাসেবা কার্যক্রমের ইনচার্জ ছালেহ আহমেদ জানান, ‘আমাদের মূল লক্ষ্যই ছিল তৃণমূল পর্যায় থেকে এমন জিমন্যাস্ট তৈরি করা, যারা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করবে। আজ যখন আমাদের ছেলে-মেয়েরা দেশের জার্সি গায়ে বিদেশের মাটিতে লড়াইয়ের জন্য মনোনীত হয়, তখন পুরো প্রতিষ্ঠানের কঠোর পরিশ্রম সার্থক মনে হয়। আমরা আশাবাদী, সিঙ্গাপুরের এই আসরে তারা দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে।’
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে ভালো করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গেমসে সাফল্য পেতে হলে তৃণমূলের এমন প্রাতিষ্ঠানিক একাডেমি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদান অনস্বীকার্য। কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ যেভাবে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ক্রীড়ায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়দের গড়ে তুলছে, তা দেশের সামগ্রিক ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত।