আসন্ন কুরবানির ঈদ সামনে রেখে গাজীপুরের খামারগুলোতে জমে উঠেছে প্রস্তুতি। জেলার বিভিন্ন খামারে দেশি-বিদেশি জাতের শত শত গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। তবে বিশাল আকৃতি ও ব্যতিক্রমী গঠনের কারণে সবার নজর কেড়েছে দুটি গরু—‘সুলতান’ ও ‘কালাপাহাড়’। ইতোমধ্যেই এই দুটি গরু দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে খামারে ভিড় করছেন মানুষ।
গাজীপুর মহানগরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের জোলারপাড় গ্রামের খামারি নাছিমুল ইসলামের খামারে বেড়ে উঠেছে ফ্রিজিয়ান জাতের বিশাল আকৃতির ষাঁড় ‘সুলতান’। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে আড়াই লাখ টাকা দিয়ে একটি ফ্রিজিয়ান গাভী কিনেছিলেন তিনি। এক বছর পর সেই গাভীর ঘরেই জন্ম নেয় সাদা-কালো রঙের আকর্ষণীয় এই ষাঁড়টি।
খামারির দাবি, বর্তমানে গরুটির ওজন প্রায় ১ হাজার ১শ কেজি। জন্মের পর থেকেই বিশেষ যত্ন ও পুষ্টিকর খাবারে বড় করা হয়েছে তাকে।
খামারি নাছিমুল ইসলাম জানান, ছোটবেলা থেকেই গুড় খেতে অভ্যস্ত ‘সুলতান’। এখনো প্রতিদিন নিয়ম করে তাকে গুড় খাওয়ানো হয়। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকার খাবার খায় গরুটি। খাদ্যতালিকায় রয়েছে খৈল, ভুসি, সুইট ভুসি, তিলের খৈল, সয়ামিল এবং প্রচুর কাঁচা ঘাস।তিনি আরও জানান, বিশাল আকৃতি ও শান্ত স্বভাবের কারণে ইতোমধ্যেই এলাকায় বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘সুলতান’। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ গরুটিকে এক নজর দেখতে খামারে আসছেন।
গাজীপুরের আরেক আকর্ষণ ‘কালাপাহাড়’। বিশাল আকৃতির কারণে পাহাড়ের সঙ্গে তুলনা করে এমন নাম দিয়েছেন খামারিরা। প্রায় ২৫ মণ ওজনের এই গরুটি গত চার বছর ধরে লালন-পালন করা হচ্ছে গাজীপুরের বিশ্বাস এগ্রো খামারে।
খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, এবারের কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে তাদের খামারে প্রায় ১৬০টি ছোট-বড় দেশি ও বিদেশি জাতের গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু গরুর ওজন ১৮০ কেজি, আবার কিছু গরুর ওজন এক হাজার কেজিরও বেশি।
প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মোটাতাজা খামার কর্তৃপক্ষের দাবি, সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই গরুগুলো মোটাতাজা করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক বা নিষিদ্ধ উপাদান ব্যবহার করা হয়নি।
গরুর খাদ্যতালিকায় রয়েছে- ভুট্টা, গম, ভুসি, সবুজ ঘাস, খড়কুটা ও সয়াবিনসহ বিভিন্ন দেশীয় খাবার। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে প্রতিটি পশুর।
গাজীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নারগিস খানম বলেন, জেলার পাঁচটি উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় এবারের কুরবানির ঈদের জন্য মোট ১ লাখ ২ হাজার ২৬৩টি পশু প্রস্তুত করেছেন খামারি ও গৃহস্থরা। জেলায় কুরবানির চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৫৩৬টি। ২৯ হাজার ২৭৩টি পশু ঘাটতি রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হাটে হতে আসা পশু ঘাটতি পূরণ করবে। স্থানীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই জেলার কুরবানির চাহিদা অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব হবে।
খামার মালিকরা জানান, অনেক ক্রেতাই আগেভাগে খামারে এসে পছন্দের পশু নির্ধারণ করে রাখছেন। পরে ঈদের আগের দিন কিংবা ঈদের দিন সকালে সেই পশু ক্রেতার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
খামারিদের আশা, এবার কুরবানির ঈদে ভালো দাম পাবেন তারা। ইতোমধ্যেই বড় আঁকারের গরুগুলোকে ঘিরে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে বলেও জানান তারা।