ঢাকা ০৫:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদির হজযাত্রী পরিবহনে  ৩১ লাখ আসন ও ১২ হাজার ফ্লাইট প্রস্তুত

প্রিন্ট নিউজ :
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

হজ মৌসুম উপলক্ষে আকাশ, রেল, সড়ক ও সমুদ্রপথ মিলিয়ে সমন্বিত বিশাল পরিবহন পরিকল্পনা নিয়েছে সৌদি আরব। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আগত লাখো হাজির নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে দেশটির পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।

সৌদি পরিবহন ও লজিস্টিক মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানায়, এবারের হজে হাজিদের জন্য বিমানগুলোতে মোট ৩১ লাখের বেশি আসন বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক যাত্রী পরিবহনে ১২ হাজারেরও বেশি নিয়মিত ও চার্টার্ড ফ্লাইট কাজ করবে। যাত্রীদের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নির্ধারিত ছয়টি প্রধান বিমানবন্দরে ২২ হাজারেরও বেশি কর্মী নিয়োজিত থাকবেন।

হাজিদের সুবিধার জন্য এবার ‘ব্যাগেজ-ফ্রি ট্রাভেলার’ বা ব্যাগহীন যাত্রী সেবা চালু করা হয়েছে। এই সেবার আওতায় হাজিরা তাদের থাকার জায়গা থেকেই সরাসরি লাগেজ পাঠিয়ে দিতে পারবেন। পাশাপাশি জমজমের পানি আগেভাগেই পাঠানোর সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে। সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থা ‘সৌদিয়া’ একাই ১০ লাখের বেশি আসন বরাদ্দ করেছে। অন্যদিকে বাজেট এয়ারলাইন ‘ফ্লাইনাস’ বিশ্বের ২০টি আন্তর্জাতিক গন্তব্য থেকে প্রায় দেড় লাখ হাজির যাতায়াত নিশ্চিত করবে।

পবিত্র স্থানগুলোর মধ্যে যাতায়াতে এবারও মূল ভূমিকা পালন করবে রেল পরিষেবা। মিনা, মুজদালিফা ও আরাফার মধ্যে হাজিদের যাতায়াতে মাশায়ের ট্রেন ২ হাজারেরও বেশি ট্রিপ সম্পন্ন করবে। আশা করা হচ্ছে, এই ট্রেনের মাধ্যমে ২০ লাখেরও বেশি যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। এছাড়া মক্কা ও মদিনার মধ্যে সংযোগকারী হারামাইন হাই-স্পিড রেলওয়ে ৫ হাজার ৩০৮টি ট্রিপ পরিচালনা করবে, যেখানে আসন সংখ্যা থাকবে ২২ লাখের বেশি।

সড়কপথের নিরাপত্তায় ব্যাপক সংস্কার কাজ চালিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। মরুভূমির বালু সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার রাখা, ১ লাখ ৭৮ হাজার লাইটিং ইউনিট সচল করা এবং ৪ হাজারেরও বেশি নির্দেশক ও সতর্কতামূলক চিহ্ন বসানো হয়েছে। হাজিদের সেবায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৩৩ হাজার বাস এবং ৫ হাজার ট্যাক্সি।

সমুদ্রপথে জেদ্দা ইসলামিক পোর্টে হাজিদের গ্রহণ করতে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং দ্রুত সাড়া দিতে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট সেফটি সেন্টার চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে। লজিস্টিক ও ডাক সেবার মান বাড়াতে বিমানবন্দর ও হাসপাতালের মতো জনবহুল এলাকাগুলোতে ইলেকট্রিক স্কুটার ও মোটরবাইক ব্যবহারের পরিকল্পনাও নিয়েছে সৌদি।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সৌদির হজযাত্রী পরিবহনে  ৩১ লাখ আসন ও ১২ হাজার ফ্লাইট প্রস্তুত

আপডেট সময় : ০৬:৩৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

হজ মৌসুম উপলক্ষে আকাশ, রেল, সড়ক ও সমুদ্রপথ মিলিয়ে সমন্বিত বিশাল পরিবহন পরিকল্পনা নিয়েছে সৌদি আরব। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আগত লাখো হাজির নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে দেশটির পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।

সৌদি পরিবহন ও লজিস্টিক মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানায়, এবারের হজে হাজিদের জন্য বিমানগুলোতে মোট ৩১ লাখের বেশি আসন বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক যাত্রী পরিবহনে ১২ হাজারেরও বেশি নিয়মিত ও চার্টার্ড ফ্লাইট কাজ করবে। যাত্রীদের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নির্ধারিত ছয়টি প্রধান বিমানবন্দরে ২২ হাজারেরও বেশি কর্মী নিয়োজিত থাকবেন।

হাজিদের সুবিধার জন্য এবার ‘ব্যাগেজ-ফ্রি ট্রাভেলার’ বা ব্যাগহীন যাত্রী সেবা চালু করা হয়েছে। এই সেবার আওতায় হাজিরা তাদের থাকার জায়গা থেকেই সরাসরি লাগেজ পাঠিয়ে দিতে পারবেন। পাশাপাশি জমজমের পানি আগেভাগেই পাঠানোর সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে। সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থা ‘সৌদিয়া’ একাই ১০ লাখের বেশি আসন বরাদ্দ করেছে। অন্যদিকে বাজেট এয়ারলাইন ‘ফ্লাইনাস’ বিশ্বের ২০টি আন্তর্জাতিক গন্তব্য থেকে প্রায় দেড় লাখ হাজির যাতায়াত নিশ্চিত করবে।

পবিত্র স্থানগুলোর মধ্যে যাতায়াতে এবারও মূল ভূমিকা পালন করবে রেল পরিষেবা। মিনা, মুজদালিফা ও আরাফার মধ্যে হাজিদের যাতায়াতে মাশায়ের ট্রেন ২ হাজারেরও বেশি ট্রিপ সম্পন্ন করবে। আশা করা হচ্ছে, এই ট্রেনের মাধ্যমে ২০ লাখেরও বেশি যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। এছাড়া মক্কা ও মদিনার মধ্যে সংযোগকারী হারামাইন হাই-স্পিড রেলওয়ে ৫ হাজার ৩০৮টি ট্রিপ পরিচালনা করবে, যেখানে আসন সংখ্যা থাকবে ২২ লাখের বেশি।

সড়কপথের নিরাপত্তায় ব্যাপক সংস্কার কাজ চালিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। মরুভূমির বালু সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার রাখা, ১ লাখ ৭৮ হাজার লাইটিং ইউনিট সচল করা এবং ৪ হাজারেরও বেশি নির্দেশক ও সতর্কতামূলক চিহ্ন বসানো হয়েছে। হাজিদের সেবায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৩৩ হাজার বাস এবং ৫ হাজার ট্যাক্সি।

সমুদ্রপথে জেদ্দা ইসলামিক পোর্টে হাজিদের গ্রহণ করতে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং দ্রুত সাড়া দিতে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট সেফটি সেন্টার চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে। লজিস্টিক ও ডাক সেবার মান বাড়াতে বিমানবন্দর ও হাসপাতালের মতো জনবহুল এলাকাগুলোতে ইলেকট্রিক স্কুটার ও মোটরবাইক ব্যবহারের পরিকল্পনাও নিয়েছে সৌদি।