• শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১০:১০ পূর্বাহ্ন
Headline

দেশে নকল ওষুধের ছড়াছড়ি

প্রিন্ট নিউজ : / ১০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

দেশে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ দেদারছে নকল হচ্ছে। অবাধে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। এসব ওষুধ সেবন করে আরো অসুস্থ হচ্ছে রোগীরা। অনেকে মারা যাচ্ছে। কিন্তু জীবননাশকারী এসব ওষুধের উৎপাদন ও বাজারজাত নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না প্রশাসন।
সম্প্রতি র্যাবের মোবাইল কোর্ট রাজধানীর উত্তরা, গুলশান, নয়াবাজার, শ্যামপুর, কদমতলী ও কেরানীগঞ্জের আটিবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল ও ভেজাল ওষুধসামগ্রী উদ্ধার করেছে।
র্যাবের (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং) পরিচালক উইং কমান্ডার এ জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, অভিযানে বিপুল নকল ও ভেজাল ওষুধসামগ্রী উদ্ধার করা হয়। পরে সকল ওষুধ ও তৈরির যন্ত্রাংশ ধ্বংস করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে জেল ও জরিমানা করেছে মোবাইল কোর্ট। তিনি বলেন, র্যাবের একার পক্ষে ভেজাল ও নকল ওষুধ তৈরিকারীদের রোধ করা সম্ভব নয়। সব পেশার মানুষকে দলমত নির্বিশেষে নকল-ভেজাল ওষুধসামগ্রী তৈরি ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি ক্রেতাদের কেনার সময় সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর ওষুধের বৃহত্তম মার্কেট পুরাতন ঢাকার মিটফোর্ড, বাবুবাজার ও ইসলামপুর এলাকায় নকল ও ভেজাল ওষুধসামগ্রী পাইকারি বিক্রির সঙ্গে অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ীর সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত। এই সিন্ডিকেটের কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ও পুরাতন ঢাকার অলিগলিতে নকল ওষুধ তৈরির কারখানা রয়েছে। ঐসব কারখানায় দেশ-বিদেশের নামিদামি কোম্পানির ওষুধ হুবহু নকল তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে মিটফোর্ড ওষুধ মার্কেট থেকে পাইকারি বাজারজাত করা হচ্ছে। এভাবে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে নকল ওষুধ। র্যাবের উদ্ধারকৃত ওষুধের মধ্যে রয়েছে ওজন কমানোর ওষুধ, ডায়াবেটিসের ওষুধ, বিভিন্ন এন্টিবায়োটিক, প্যারাসিটামল সিরাপ ও ট্যাবলেট, বিভিন্ন ধরনের ইনজেকশন এবং ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ।
এ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, জেনেশুনে নকল ওষুধসামগ্রী উৎপাদন এবং বাজারজাত করে রোগীদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এসব ওষুধ খেয়ে অনেকের মৃত্যু ঘটছে। এটা হত্যা করার মতো অপরাধ। জানতে চাইলে দেশের অন্যতম কিডনি বিশেষজ্ঞ ও কিডনি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ বলেন, ভেজাল ও নকল ওষুধ খেলে কিডনি ফেইলিউর হবে। এছাড়া নানা জটিলতা দেখা দেবে। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকবে। নতুন হাসপাতাল তৈরি না করে ভেজাল ও নকল ওষুধসামগ্রীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের নিউনেটাল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মনির হোসেন বলেন, ভেজাল ও নকল ওষুধ সেবনে শিশুদের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা তো নেই বরং চরম জটিলতা হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। এমনকি প্রাণহানিও ঘটতে পারে। একই হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. সফি আহমেদ মোয়াজ বলেন, অনেক সময় জ্বর নিয়ে শিশুরা আসে। প্যারাসিটামল সিরাপ ও অন্যান্য ওষুধ দেওয়া হয়। জ্বর কমে যায়। আবার জ্বর আসে। অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়। নকল ও ভেজাল ওষুধের কারণে এমন হতে পারে। তাই এসব ওষুধ বিক্রি, বিতরণ ও সংরক্ষণ পুরোপুরি বন্ধ করতে ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া স্বীকৃত ফার্মাসিস্ট এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ওষুধ বিক্রি বন্ধ নিশ্চিত করাও জরুরি।
এসব দেখভালের দায়িত্বে থাকা ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. আখতার হোসেন বলেন, একশ্রেণির ওষুধ ব্যবসায়ীর মানবিকতা উঠে গেছে। তারা অতি মুনাফার লোভে নকল ও ভেজাল ওষুধ বিক্রি করছে। ওষুধ প্রশাসন থেকে সোর্স লাগিয়ে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে অধিদপ্তরে আরো জনবলের প্রয়োজন বলে তিনি জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিমুল হালদারও বলেছেন, ‘এসব বন্ধে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সক্ষমতা ও জনবল বৃদ্ধি করা জরুরি।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

হার্টের রিংয়ের দাম ৪৮ হাজার টাকা পর্যন্ত কমলো হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিং বা করোনারি স্টেন্টের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। বেশিরভাগ রিংয়ের দাম পূর্বের তুলনায় ৩ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ প্রায় ৪৮ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। ট্যাক্স, ভ্যাট, বিভিন্ন চার্জ, কমিশন এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তিসংগত মুনাফা বিবেচনা করে এই মূল্য সংশোধন করা হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোাহাম্মদ আলমগীর হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন নির্ধারিত এই মূল্য অবিলম্বে কার্যকর হবে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির সিদ্ধান্ত ও সুপারিশের আলোকে এই মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে মোট ২৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হার্টের রিংয়ের পূর্ববর্তী মূল্য এবং নতুন অনুমোদিত মূল্যের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় দেখা যায়, বেশিরভাগ রিংয়ের দাম পূর্বের তুলনায় ৩ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি দেশের সব কার্ডিয়াক চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী হাসপাতালের জন্য ৪টি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে অধিদপ্তর। সেগুলো হলো- ১. স্টেন্টসমূহের হালনাগাদ মূল্য তালিকা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য সংশ্লিষ্ট সব হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে উন্মুক্ত স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। ২. সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য অনুসরণ করে রিং ক্রয়-বিক্রয় করতে হবে। এটি কোনোভাবেই চিকিৎসা প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। ৩. স্টেন্টের নাম, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে রোগীকে পৃথক ক্যাশমেমো দিতে হবে। ৪. অস্ত্রোপচারের পর ব্যবহৃত স্টেন্টের খালি প্যাকেট বাধ্যতামূলকভাবে রোগীকে সরবরাহ করতে হবে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের সব কার্ডিয়াক হাসপাতালে হার্টের রিং সরবরাহ এবং তা অনুমোদিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে বিক্রি হচ্ছে কি না— তা কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে। বাজারে বিভিন্ন দামের স্টেন্ট পাওয়া যায়। নতুন তালিকায় সর্বনিম্ন ১৪ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের স্টেন্টও রয়েছে। বাংলাদেশে রিং আসে দেশের বাইরে থেকে। সাধারণত ইউরোপ-আমেরিকা থেকে এগুলো আমদানি করেন ব্যবসায়ীরা। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও জার্মানি, পোল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ড থেকে রিং আসে বাংলাদেশে। এছাড়া জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত থেকেও রিং আমদানি করা হয়।

ফেসবুকে আমরা