মৌলভীবাজারে রাক্ষুসী কন্টিনালা নদীর ভাঙনে আতঙ্ক—নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে লক্ষাধিক মানুষ
- আপডেট সময় : ০৯:৫৮:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার কন্টিনালা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদী তীরবর্তী লক্ষাধিক মানুষ। বছরের পর বছর অতিবৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে এই নদী এখন রাক্ষুসী রূপ ধারণ করেছে। প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, হাটবাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দিরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
বর্ষা মৌসুম এলেই ভাঙনের আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। ইতোমধ্যে বহু পরিবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র চলে গেলেও এখনো শতাধিক পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কন্টিনালা নদীর প্রায় ৪৩ কিলোমিটার এলাকা—রাবার ড্রাম পর্যন্ত—সম্পূর্ণ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নদীর দুই তীরে একসময় ১৬৬টি পরিবারের বসতবাড়ি থাকলেও অনেকের বাড়িঘর ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন, আর যারা আছেন তারাও চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন।
জুড়ী উপজেলার বেলাগাঁও, সোনাপুর, গরেরগাঁও, দক্ষিণ জাঙ্গীরাই ও শোলাবাড়ি এলাকার মানুষদের জন্য নদীর পাশ দিয়ে চলা একমাত্র গ্রামীণ সড়কটিই প্রধান ভরসা। কিন্তু অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে সড়ক ডুবে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা।
নদী ভাঙনের কারণে গবাদিপশু ও পোষা প্রাণী নিয়ে দুর্ভোগ বাড়ছে। পানিবন্দি অবস্থায় দেখা দিচ্ছে খাদ্য সংকট ও স্যানিটেশন সমস্যা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নদী ভাঙনের আশঙ্কায় আমরা আতঙ্কে আছি।”
আরও একাধিক ভুক্তভোগী নারী-পুরুষ নদীর পাশ ঘেঁষা কন্টিনালা থেকে রাবার ড্রাম পর্যন্ত দীর্ঘ সড়ক সংস্কার ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওলিদ জানান,
“ভারত থেকে নেমে আসা পানির প্রবল স্রোতের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নদী ভাঙনে আরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। নদী তীরবর্তী কয়েক শতাধিক পরিবারের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

























