• শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন

ইসলাম কী বলে-স্থায়ী ও অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে?

প্রিন্ট নিউজ : / ৫ Time View
Update : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

কোনো দম্পতির জীবন সন্তান সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত। আল্লাহ যাকে চান তাকেই সন্তান দান করেন। অনেক মানুষ কোটি টাকা খরচ করেও সন্তানের মুখ দেখতে পারেন না। আর অনেকে সন্তান জন্মদানে অনীহা দেখায়। এ বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা কী?
জন্মনিয়ন্ত্রণ ও স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা সম্পর্কে জানিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।
সম্প্রতি এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন— আমার বাচ্চার বয়স ১৪ মাস, আমার স্ত্রীর সিজার করা হয়েছিল। আমি আগামী ৪-৫ বছর বাচ্চা নিতে চাচ্ছি না। আমার প্রশ্ন— জন্মনিয়ন্ত্রণ ইমপ্লান্ট, কপাটি। এসব পদ্ধতি ইসলামে জায়েজ হবে কিনা। অথবা ইসলামে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি আছে কি?
জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, যদি সিজারে বাচ্চা হয়, আর ডাক্তার বলে এবার বাচ্চা নিলে মা ঝুঁকিতে পড়তে পারে, তাহলে আপনি অবশ্যই জন্মনিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। কিন্তু জন্মনিয়ন্ত্রণে স্থায়ী পদ্ধতি কোনোভাবেই গ্রহণ করা উচিত নয়।
তার মতে, স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ (যেমন— বন্ধ্যাকরণ বা টিউবেকটমি) সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েজ। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে সাময়িক বিরতি দেওয়া বৈধ হলেও রিজিকের ভয়ে বা সন্তান লালন-পালনের অক্ষমতার অজুহাতে জন্মনিয়ন্ত্রণ করাকে তিনি ইসলামে সমর্থনযোগ্য মনে করেন না।
জন্মনিয়ন্ত্রণের মূল দিকগুলো হলো—
স্থায়ী পদ্ধতি নিষেধ: স্থায়ীভাবে সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা ধ্বংস করা (বন্ধ্যত্বকরণ) ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।
সাময়িক বিরতি বৈধ: স্ত্রীর অসুস্থতা, শারীরিক দুর্বলতা বা অন্য কোনো যৌক্তিক ও বৈধ কারণে স্বামী-স্ত্রীর সম্মতিতে সাময়িক সময়ের জন্য সন্তান গ্রহণে বিরতি নেওয়া জায়েজ।
রিজিকের ভয় ও জন্মনিয়ন্ত্রণ: ‘কী খাওয়াব’ কিংবা ‘ভবিষ্যতে কীভাবে চালাব’—এজাতীয় পার্থিব ও আর্থিক দুশ্চিন্তা বা আশঙ্কায় সন্তান না নেওয়া বা জন্মনিয়ন্ত্রণ করা অনুচিত।
আহমাদুল্লাহর মতে, আল্লাহতায়ালাই প্রতিটি সৃষ্টির রিজিকের জিম্মাদার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা