রোজা রেখে রক্ত দেয়া যায়
- আপডেট সময় : ০৫:১৩:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে
শারীরিক সামর্থ্য থাকলে রোজা রেখেও রক্ত দিতে কোনো অসুবিধা নেই। এ ব্যাপারে সমকালীন ইসলামী চিন্তাবিদরা একমত পোষণ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আল্লামা শেখ ইউসুফ আল কারযাভী, মুফতি ওসমান সাহিন প্রমুখ বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ।
শেখ ইউসুফ আল কারযাভী বলেন, মুমূর্ষু রোগীর প্রয়োজনে রক্তদানের মাধ্যমেই একজন মানুষ তাকে সর্বোত্তম সহযোগিতা করতে পারে। মুফতি ওসমান সাহিন বলেন, শারীরিক অসুবিধা না থাকলে রক্তদানে ইসলামী শরীয়ায় কোনো বাধা নেই।
নবীজী (স.) রোজা রেখে রক্তমোক্ষণ করিয়েছেন অর্থাৎ চিকিৎসার একটি বিশেষ পদ্ধতিতে শরীর থেকে বিষাক্ত রক্ত বের করেছেন এ রকম বর্ণনা পাওয়া যায়। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজী (সা.) হজের জন্যে ইহরাম বাঁধা অবস্থায় শরীর থেকে শিঙ্গার মাধ্যমে রক্ত বের করেছেন এবং রোজা অবস্থায়ও শরীর থেকে শিঙ্গার মাধ্যমে রক্ত বের করেছেন। (সহিহ বুখারী সহিহ মুসলিম)
হযরত সাবিত আল বানানী থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, ‘হযরত আনাস বিন মালেক (রা)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছে যে, রোজাদারের জন্যে শিংগা লাগিয়ে শরীর থেকে রক্ত বের করাকে আপনি কি অপছন্দ করেন? জবাবে তিনি বলেন, না আমি অপছন্দ করি না। তবে দুর্বল হয়ে পড়ার ভয় থাকলে ভিন্ন কথা।’ (সহীহ আল বোখারী ১:২৬০)
কাজেই রোজা রেখে রক্ত দিলে শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা তো নেইই, বরং জীবন রক্ষার যে সওয়াব সাধারণ সময়ে হতো, রমজানে তা বেড়ে যেতে পারে ৭০ গুণ।
পবিত্র কোরআনের সূরা মায়েদার ৩২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যখন কেউ কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল। আর যখন কেউ কোনো মানুষের জীবন রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষা করল।’
রোজা রেখে রক্তদানের আগে-পরে লক্ষ্যণীয়
রমজানে ইফতারের পর বা সেহরির পরে সকালের দিকেই রক্তদান করা সবচেয়ে ভালো। রক্তদানের আগে ও পরে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার খাওয়া উচিত। রক্তদানের পর শক্তি ফিরে পেতে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার যেমন- খেজুর, দুধ, ফলমূল ও সবুজ শাকসবজি খাওয়া প্রয়োজন। রক্তদানের পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়া ভালো।
অতএব একজন রক্তদাতা রমজান মাসেও অনায়াসে রক্ত দিতে পারেন। রোজা রেখে রক্ত দিতে ধর্মীয় বা বৈজ্ঞানিক কোনো বাধা নেই। রমজানে রক্তচাহিদা বিষয়ে কোয়ান্টাম ল্যাবের অর্গানিয়ার শামীমা নাসরিন মুন্নী বলেন, অন্য সময়ের তুলনায় রমজানে রক্তের অনেক সংকট থাকে। চাহিদা অনুযায়ী অনেককে ফিরিয়ে দিতে হয়। স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের উদ্দেশে তিনি কোয়ান্টাম ব্লাড ল্যাবে এসে রক্ত দেয়ার আহ্বান জানান। কারণ এখানে এক ব্যাগ রক্ত থেকে ৪টি রক্ত উপাদান পৃথক করা যায়। যার যেটি প্রয়োজন তাকে সেই উপাদানটি দেয়া হয়। কাজেই ল্যাবে এসে এক ব্যাগ রক্তদান ৪টি জীবন বাঁচানোর সমান কল্যাণের। রমজান মাসে এই একই কাজ ৭০ গুণ, মানে ২৮০টি জীবন বাঁচানোর সমান হতে পারে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই কোয়ান্টাম ল্যাব খোলা থাকে।
অতএব রমজানে রোজা রেখে রক্ত দিতে ধর্মীয় বা বৈজ্ঞানিক কোনো বিধিনিষেধ নেই। এছাড়া রোজা রেখে রক্ত দিলে শারীরিক কোনো সমস্যাও হয় না। রমজানে জীবন রক্ষাকারী রক্ত সংকটে রক্ত সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রমজানে রক্তদান স্বাভাবিক রাখতে স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের সচেতনতা ও উদ্বুদ্ধকরণের বিকল্প নেই।


























