ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বজ্রপাতে সারাদেশে ১১ জনের মৃত্যু

প্রিন্ট নিউজ :
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এরমধ্যে সুনামগঞ্জের চার উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলায় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এছাড়া রংপুরে ২ জন, ময়মনসিংহে ২ জন , হবিগঞ্জে ১ জন, নেত্রকোনায় ১ জন ও হবিগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতরা হলেন-ধর্মপাশার হাবিবুর রহমান (৩০), রহমত উল্লা (১৫), জামালগঞ্জের নাজমুল হোসেন (২৬), তাহিরপুরে আবুল কালাম (২৫) ও দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে চার উপজেলায় হঠাৎ আকাশ কালো করে প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়। তখন তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আবুল কালাম আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্বার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাতে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ওই কৃষকের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে জামালগঞ্জের পাগনার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে নূর জামাল (২৬) নামে আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়।

নিহত কৃষক উপজেলার চানপুর গ্রামের আমির আলীর ছেলে। জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি বন্দে আলী বলেন, পাগনার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে এক কৃষক নিহত হয়েছে। এছাড়াও আরোও ১ জন আহত হয়েছে।

পাশাপাশি একই সময়ে ধর্মপাশার টগার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে হাবিবুর রহমান নামে আরেক কৃষক আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ধর্মপাশা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত কৃষক উপজেলার পাইকরহাটি ইউনিয়নের বড়ই হাটি গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে।

একই উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামে বাড়ির পাশে ধান শুকাতে গিয়ে বজ্রপাতে রহমত উল্লা (১৫) নামে আরেক জনের মৃত্যু হয়।

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদ উল্ল্যা বলেন, হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেলার দিরাই উপজেলার বরাম হাওরে ধান কাটতে গিয়ে লিটন মিয়া (৩০) নামে আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়। নিহত কৃষক উপজেলার হাসনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।

রংপুর: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সখীপুর গ্রামে একটি মৎস্য খামারে মাছ ধরার সময় বজ্রাঘাতে ২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- রামেশ্বরপাড়া গ্রামের মিলন মিয়া (৩৫) এবং সখীপুর গ্রামের আবু তালেব (৬৫)।

মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. এম এ হালিম লাভলু জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুসহ আরও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

নেত্রকোণানেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার মেষির হাওড়ে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে আলতু মিয়া (৬৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি সুখারী ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহানুর রহমান বলেন, বজ্রাঘাতে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।

এছাড়াও ময়মনসিংহে দুইজন ও হবিগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

 

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বজ্রপাতে সারাদেশে ১১ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৬:৩৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এরমধ্যে সুনামগঞ্জের চার উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলায় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এছাড়া রংপুরে ২ জন, ময়মনসিংহে ২ জন , হবিগঞ্জে ১ জন, নেত্রকোনায় ১ জন ও হবিগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতরা হলেন-ধর্মপাশার হাবিবুর রহমান (৩০), রহমত উল্লা (১৫), জামালগঞ্জের নাজমুল হোসেন (২৬), তাহিরপুরে আবুল কালাম (২৫) ও দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে চার উপজেলায় হঠাৎ আকাশ কালো করে প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়। তখন তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আবুল কালাম আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্বার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাতে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ওই কৃষকের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে জামালগঞ্জের পাগনার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে নূর জামাল (২৬) নামে আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়।

নিহত কৃষক উপজেলার চানপুর গ্রামের আমির আলীর ছেলে। জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি বন্দে আলী বলেন, পাগনার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে এক কৃষক নিহত হয়েছে। এছাড়াও আরোও ১ জন আহত হয়েছে।

পাশাপাশি একই সময়ে ধর্মপাশার টগার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে হাবিবুর রহমান নামে আরেক কৃষক আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ধর্মপাশা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত কৃষক উপজেলার পাইকরহাটি ইউনিয়নের বড়ই হাটি গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে।

একই উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামে বাড়ির পাশে ধান শুকাতে গিয়ে বজ্রপাতে রহমত উল্লা (১৫) নামে আরেক জনের মৃত্যু হয়।

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদ উল্ল্যা বলেন, হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেলার দিরাই উপজেলার বরাম হাওরে ধান কাটতে গিয়ে লিটন মিয়া (৩০) নামে আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়। নিহত কৃষক উপজেলার হাসনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।

রংপুর: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সখীপুর গ্রামে একটি মৎস্য খামারে মাছ ধরার সময় বজ্রাঘাতে ২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- রামেশ্বরপাড়া গ্রামের মিলন মিয়া (৩৫) এবং সখীপুর গ্রামের আবু তালেব (৬৫)।

মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. এম এ হালিম লাভলু জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুসহ আরও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

নেত্রকোণানেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার মেষির হাওড়ে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে আলতু মিয়া (৬৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি সুখারী ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহানুর রহমান বলেন, বজ্রাঘাতে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।

এছাড়াও ময়মনসিংহে দুইজন ও হবিগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়েছে।