ইসলামে কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা শুধু পশু জবাইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং এর মূল উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাকওয়া। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা নামাজের পাশাপাশি কোরবানির নির্দেশ দিয়েছেন—
فَصَلِّ لِرَبِّکَ وَ انۡحَرۡ
‘সুতরাং তোমার রবের উদ্দেশে নামাজ আদায় কর ও কোরবানি কর।’ (সুরা কাওসার: আয়াত ২)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَالۡبُدۡنَ جَعَلۡنٰهَا لَکُمۡ مِّنۡ شَعَآئِرِ اللّٰهِ لَکُمۡ فِیۡهَا خَیۡرٌ فَاذۡکُرُوا اسۡمَ اللّٰهِ عَلَیۡهَا صَوَآفَّ فَاِذَا وَجَبَتۡ جُنُوۡبُهَا فَکُلُوۡا مِنۡهَا وَ اَطۡعِمُوا الۡقَانِعَ وَ الۡمُعۡتَرَّ کَذٰلِکَ سَخَّرۡنٰهَا لَکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ لَنۡ یَّنَالَ اللّٰهَ لُحُوۡمُهَا وَ لَا دِمَآؤُهَا وَ لٰکِنۡ یَّنَالُهُ التَّقۡوٰی مِنۡکُمۡ ؕ کَذٰلِکَ سَخَّرَهَا لَکُمۡ لِتُکَبِّرُوا اللّٰهَ عَلٰی مَا هَدٰىکُمۡ وَ بَشِّرِ الۡمُحۡسِنِیۡنَ
‘আর কুরবানির উটকে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন বানিয়েছি; তোমাদের জন্য তাতে রয়েছে কল্যাণ। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান অবস্থায় সেগুলোর উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর যখন সেগুলো কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তা থেকে খাও। যে অভাবী, মানুষের কাছে হাত পাতে না এবং যে অভাবী চেয়ে বেড়ায়— তাদেরকে খেতে দাও। এভাবেই আমি ওগুলোকে তোমাদের অনুগত করে দিয়েছি; যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এগুলোর গোশত ও রক্ত বরং তার কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। এভাবেই তিনি সে সবকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর তাকবির পাঠ করতে পার, এজন্য যে, তিনি তোমাদেরকে হিদায়াত দান করেছেন; সুতরাং তুমি সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা হজ: আয়াত ৩৬-৩৭)
কোরবানি বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য পশু দোষ-ত্রুটিমুক্ত হওয়া আবশ্যক। কোরবানির পশু সব ধরনের শারীরিক ত্রুটিমুক্ত হওয়া জরুরি। গুণগত দিক থেকে উত্তম হলো, পশুটি দেখতে সুন্দর, নিখুঁত বা দোষত্রুটি মুক্ত ও হৃষ্টপুষ্ট।
যে পশু দেখলে পছন্দ হয়। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) শিংবিশিষ্ট ও মোটাতাজা একটি মেষ কোরবানি করেছেন। এর চেহারা, পা ও চোখ ছিল মিটমিটে কালো। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩১২৮)
যেসব ত্রুটিতে কোরবানি শুদ্ধ হবে না
১. সম্পূর্ণ অন্ধ পশু
যে পশু একেবারেই দেখতে পায় না, তা কোরবানির জন্য অযোগ্য।
২. পঙ্গু বা খোঁড়া পশু
যদি পশু স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে না পারে বা পায়ে গুরুতর সমস্যা থাকে, তাহলে তা দিয়ে কোরবানি করা যাবে না।
৩. গুরুতর আহত বা ভাঙা অঙ্গের পশু
যে পশুর শরীরের কোনো অংশ ভেঙে গেছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত—সে পশু কোরবানির উপযুক্ত নয়।
৪. দাঁতহীন পশু
যদি পশুর অধিকাংশ দাঁত পড়ে যায় এবং খাবার চিবাতে অক্ষম হয়, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।
৫. শিং গোড়া থেকে ভাঙা
শিং যদি গোড়া থেকে ভেঙে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে, তাহলে কোরবানি শুদ্ধ হবে না। তবে আংশিক ভাঙা বা জন্মগতভাবে শিং না থাকলে সমস্যা নেই।
৬. লেজ বা কানের বড় অংশ কাটা
যদি লেজ বা কানের অর্ধেক বা তার বেশি অংশ কাটা থাকে, তাহলে সেই পশু অযোগ্য। তবে জন্মগতভাবে ছোট বা আংশিক ভিন্নতা থাকলে তা গ্রহণযোগ্য।
কোরবানি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয় এটি একটি ইবাদত, যেখানে শুদ্ধতা ও নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পশু কেনার সময় এসব বিষয় ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন, যাতে ইবাদতটি সঠিকভাবে আদায় হয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।