বৈশাখের প্রথম দিনেই ঈশ্বরদীতে তাপপ্রবাহ, হাঁপিয়ে উঠছেন শ্রমিকেরা
- আপডেট সময় : ০৮:০৭:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বৈশাখের প্রথম দিনেই তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে পাবনার ঈশ্বরদী। প্রচণ্ড গরমে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। খরতাপে যেন স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো জনপদ—শহর, গ্রাম, পথঘাট সবখানেই বিরাজ করছে অসহনীয় উত্তাপ।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা মৌসুমের সর্বোচ্চ।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের সহকারী পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, গত ৪ এপ্রিল মৌসুমের প্রথম তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পর তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও ১২ এপ্রিল থেকে আবার মৃদু তাপপ্রবাহ শুরু হয়। ওইদিন তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি এবং ১৩ এপ্রিল তা কমে ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রিতে নেমে আসে। তবে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও তাপমাত্রা বেড়ে ১৪ এপ্রিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে। যা এই মৌসুমে সর্বোচ্চ।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও শ্রমিকেরা। তপ্ত রোদে কাজ করতে গিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই হাঁপিয়ে উঠছেন তারা।
শহরের শৈলপাড়া এলাকায় ইট ভাঙার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক শামসুল আলমকে দেখা যায় মাথায় গামছা বেঁধে, ঘামে ভেজা শরীরে কাজ করছেন। কিছুক্ষণ পরপরই কাজ থামিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘তীব্র গরমে এখন আর আগের মতো টানা কাজ করা যায় না। আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা কাজ করলেই শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই মাঝেমধ্যে মেশিন বন্ধ করে বিশ্রাম নিতে হয়।’
তীব্র গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল বাতেন জানান, তাপপ্রবাহের কারণে পানিশূন্যতাসহ বিভিন্ন রোগব্যাধি বাড়তে পারে। তিনি প্রচুর পানি, লেবুর শরবত ও ডাবের পানি পান করার পাশাপাশি সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা, ঢিলেঢালা পোশাক পরা এবং ছাতা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি বাড়তি নজর রাখার এবং বাইরের খোলা খাবার পরিহার করার কথা বলেছেন তিনি।























