কক্সবাজারে ধান পাহারায় থাকা কৃষককে শুঁড়ে তুলে আছড়ে মারলো হাতি
- আপডেট সময় : ০৭:৫০:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজারের ঈদগাঁওর ইসলামাবাদ ইউনিয়নে পাকা ধানক্ষেত পাহারা দিতে যাওয়া কৃষককে শুঁড়ে তুলে আছড়ে মেরেছে একটি বুনো হাতি।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভোররাতে পূর্ব গজালিয়া সাতঘরিয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য জুবায়েদ উল্লাহ্ জুয়েল। নিহত কৃষক ছাবের আহমদ (৬৯) ইসলামাবাদ গজালিয়া সাতঘরিয়া পাড়ার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ধানে পাক ধরা শুরু করলে এলাকায় বন্য হাতির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা রাতে আগুন জ্বালিয়ে ও শব্দ করে ফসল রক্ষার চেষ্টা করেন। প্রতিদিনের মতো ভোররাতে নিজের জমির ধানক্ষেত পাহারা দিতে যান ছাবের আহমদ এবং আগুন জ্বালিয়ে ক্ষেত পাহারা দিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ একটি বন্য হাতি ধানক্ষেতে ঢুকে পড়ে এবং তাকে আক্রমণ করে।
ঘটনাস্থলে থাকা কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, হাতিটি শুঁড় দিয়ে ছাবের আহমদকে আঘাত করে শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম করে। বিশেষ করে তার দুই পা, হাত ও মুখে মারাত্মক আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, ফজরের আজানের একটু আগে হঠাৎ হাতির বিকট গর্জনে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে এসে দেখি মসজিদের পাশেই ছাবের আহমদের নিথর দেহ পড়ে আছে। দৃশ্যটি ছিল খুবই মর্মান্তিক।
ইউপি সদস্য জুবায়েদ উল্লাহ্ জুয়েল জানান, ছাবের আহমদের বড় ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ। ফলে পরিবারের উপার্জনের একমাত্র ভরসা ছিলেন ছাবের আহমদই। তার আয়ে সংসার চলত। তার মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
ফুলছড়ি রেঞ্জের রাজঘাট বিট কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, কক্সবাজার অঞ্চলে সম্প্রতি বন্য হাতির চলাচল বেড়েছে। বিশেষ করে পাহাড়সংলগ্ন এলাকায়। খাদ্যের সন্ধানে হাতিরা লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। ফলে মানুষ-হাতি সংঘাত বাড়ছে।
তিনি আরও জানান, বন্য হাতির আক্রমণে নিহতদের পরিবারকে সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। এ জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব।
স্থানীয় মেম্বার জুয়েল বলেন, হাতির চলাচলের পথ চিহ্নিত করে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, সতর্কতামূলক প্রচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি।
কক্সবাজার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও-উত্তর) মারুফ হোসেন বলেন, বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া এবং মানুষের বসতি ও কৃষিকাজ সম্প্রসারণের কারণে মানুষ-হাতির সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে। কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবছরই প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। এর স্থায়ী সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার।























